AUW Writing Team, Dhaka Community Managersপরিবহন সেবাঃ ধনী-গরীব বৈষম্য

লেখকঃ নিশা কারকি

অনুবাদকঃ নুসরাত ইয়াসমিন এবং ফারজানা নওশিন

বিশ্ব ব্যাংক এক জরিপে বলেছে যে, বাংলাদেশে দরিদ্র (মাথাপিছু আয়২ ডলার) মানুষের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কমে গিয়েছে অর্থাৎ যা ২০০০ সালে ছিল ৬,৩০,০০০০০ সেটি ২০১০ সালে কমে ৪,৭০,০০০০০ হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি প্রতি বছর ১% করে বাড়ছে তারপরও গরীব ও মধ্যবিত্তের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনো আছে। এই অর্থনৈতিক বৈষম্যতা মধ্যবিত্ত ও গরীবদের মধ্যে সরকার প্রদানকৃত যানবাহন ব্যবস্থার উপর প্রভাব বিস্তার করে। জনাব মান্নান এর মতে, ঢাকার যানবাহন পরিস্থিতি উচ্চ আয়ের পরিবারের জন্য বেশী প্রযোজ্য এবং সুবিধাজনক। ঢাকায় যেসব পরিবারের নিজস্ব মোটরযান আছে তাদের ৬৬% মানুষেরই আয় ৩০,০০০ টাকার বেশী। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মোটরবিহীন গণপরিবহন ব্যবহার করার প্রবনতা বেশী। এ কারণে এ সমস্ত যানবাহনে অতিরিক্ত ভীড় থাকে; বিশেষ করে মহিলা এবং শিশুদের জন্য এসব যানবাহন ব্যবহার করা অস্বস্তিকর করে পড়ে। সি.এন.জি, নিজস্ব গাড়ী এবং বাস অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শহুরে জনগোষ্ঠী গণপরিবহনের মান কমিয়ে দিয়েছে; উপরন্তু, রিকশা এবং বাইসাইকেলেরও মান কমে গিয়েছে।

১৯৬১ অধ্যাদেশে সপ্তম নম্বরের অধীনে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বি.আর.টি.সি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত পরিবহন কর্পোরেশন যা সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য সস্তা এবং আরামদায়ক ভ্রমন ব্যবস্থা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বি.আর.টি.সি এর ১,১১৬ টি বাস পুরো বাংলাদেশে চলাচল করছে কিন্তু এগুলো ৪৭ মিলিয়ন (প্রায় ২৬ শতাংশ) দরিদ্র মানুষের পরিবহন চাহিদা মিটাতে যথেষ্ট নয়।

অনুরূপভাবে, কার্যকরী, সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকা নগর পরিবহন প্রকল্প (DUTP) প্রতিষ্ঠিত করেছে। খন্দকার ও রাউসের মতে, ডি.ইউ.টি.পি. ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচলের উন্নতিসাধন করেছে; যদিও বাস্তবে এর দ্বারা পুরুষ যাত্রীগণ, উচ্চবিত্ত মানুষ এবং মোটরগাড়ী-মালিকবৃন্দ প্রধানত উপকৃত হচ্ছে। বস্তুত, নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের যানবাহন ছিল পরিবহন সাশ্রয়ী রিকশা, তাদের ফ্লাইওভার নির্মাণকালীন সময়ে কষ্টভোগ করতে হয়েছিল। ক্ষুদ্র পুঁজিবাদীদের উপর এই প্রকল্পের পর্যাপ্ত বিচার-বিশ্লেষণের অভাবের ফলে দরিদ্র জীবনে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে পরিবহন পরিকাঠামোগত ফাঁক কমানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে গণপরিবহন, যেমন-রেলওয়ে বা স্বল্প দামী পাবলিক বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সকল প্রকার পরিবহনের সেবা চার্জ যেন সব শ্রেণীর জন্য সহজলভ্য হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। এক বিবৃতিতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলে, “পরিবহন বিধি যা মোটরবিহীন-চালিত যানবাহন ব্যবহারের প্রচার চালায় তা সাধারণত সেই জনগোষ্ঠীর সরাসরি কল্যাণ সাধন করে যারা মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহারে সামর্থ্য নয়।” তাই সরকারের মোটরবিহীন-চালিত যানবাহন ব্যবহারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, রিকশা এবং বাইসাইকেলের উপর থেকে কর সরিয়ে ফেলা বা হ্রাস করা এবং পারকিং এর জন্য খালি স্থান তৈরী করতে হবে। ভবিষ্যতে পরিবহন প্রকল্প গঠনের সময় যেমনঃ ডি.ইউ.টি.পি.(DUTP), দরিদ্রদের উপর নেতিবাচক এবং ইতিবাচক প্রভাব কীরূপ পড়ছে তা পরিকল্পনাকারীকে ও সরকারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধনীদের উপকার করার পাশাপাশি সরাসরি দরিদ্রদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা উচিত।

Photo credit: Robert Monestel