The Asian University for Women Writing Team, Dhaka Community Managerশহুরে দরিদ্র মহিলাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিঃ ব্রাক, টার্গেটিং আলট্রা পুওর (টি.ইউ.পি)

লেখিকাঃ রুভানি নাগোদা নিসান্সালা, অনুবাদকঃ নুসরাত ইয়াসমিন

এইচআইভি/এইডসের সার্বিক প্রকোপ বাংলাদেশে এখনো নিম্ন, ১% এরও কম জনসংখ্যা এই রোগে আক্রান্ত হয়। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের উচ্চ প্রকোপ, যেমন,যৌনকর্মী এবং তাদের ক্লায়েন্টের মধ্যে অরক্ষিত যৌন-সঙ্গম এবং মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সুচ ভাগাভাগির সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিবেশী দেশে (যেমন থাইল্যান্ড হিসাবে) এই ধরনের রোগের সূচকীয় বিস্তার, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে এইচআইভি মহামারীর উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে।এই ঝুঁকি উপাদান ছাড়াও, বাংলাদেশের উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব, অত্যন্ত নিম্নমানের জীবনযাপন, কম উৎপাদনশীলতা, বেকারত্ব, এবং লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি ও এইচআইভি সংক্রমণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস ১৯৮৯ সালে প্রথম সনাক্ত করা হয়। জাতীয় এইডস এবং এসটিআই প্রোগ্রাম (এনএএসপি) অনুমান মতে, ২০১০ সাল পর্যন্ত ৭৫০০ বাংলাদেশী এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে বসবাস করছে। এই বৃদ্ধিজনক ঘটনার বিপরীতে, মুষ্টিমেয় এনজিও এইচআইভির বিস্তার থামাতে এবং ইতিমধ্যেই সংক্রমিত যারা তাদের সেবা প্রদানের জন্য এইচআইভি/এইডস শিকার এবং তাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা শুরু করেছে।

১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল এডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসএপি), একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, চট্টগ্রামে এইচআইভি/এইডস সচেতনতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখছে। চট্টগ্রাম দেশের সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি, যার মোট জনসংখ্যা ৪.৮ মিলিয়ন। বিআইএসএপি প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামে এইচআইভি/এইডস প্রাদুর্ভাব কমাতে সচেতনতা প্রোগ্রাম যেমন, এইচআইভি প্রতিরোধের কৌশলের উপর ফোকাস করে। এখন পর্যন্ত তারা বিশেষ করে ঝুঁকিপ্রবণ নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক সংহতি প্রকল্পে কাজ করেছে। বিআইএসএপি বিশ্বাস করে সমাজের ঝুঁকিপ্রবণ গোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করার মাধ্যমে দারিদ্র্যের বোঝা এবং এই ধরনের সংক্রমিত রোগের বিস্তার হ্রাস করা সম্ভব।

২০০৮ সালে, আয়ারল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, বিআইএসএপি চট্টগ্রাম শহরে এইচআইভি / এইডস ও অন্যান্য যৌনরোগ প্রতিরোধ একটি প্রধান প্রচারণা চালু করে। সমাজের সদস্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কিভাবে এইচআইভি ছড়ায় এবং কারা রোগ ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আছে ষে সম্পর্কে সচেতন করাই এই তিন বছরের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, বিআইএসএপি শিক্ষক, ছাত্র, স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদানকারী, স্থানীয় নেতা, এবং পরিবহন ইউনিয়ন নেতাদের জন্য শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৯ সালে, বিআইএসএপি চট্টগ্রামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ ডাক্তারদের জন্য এইচআইভি / এইডস প্রশিক্ষণ কর্মসূচী আয়োজন করে। এই প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, চিকিৎসকদের শিক্ষিত করে তোলা যেন তারা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক সংহতি উন্নয়নের মাধ্যমে এসটিআই ঝুঁকিপূর্ণ তরুণ, যারা তথ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত তারা যাতে বাধা অতিক্রম পারে, তা নিশ্চিত করা। বর্তমানে, বিআইএসএপি বিশেষভাবে স্থানীয় রিকশা ও সিএনজি (স্বয়ংক্রিয় রিকশা) ড্রাইভার, ছোট ব্যবসায়ী, এবং গার্মেন্টস কারখানা শ্রমিকদের জন্য শিক্ষাগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। এটা যাদের সঙ্গে যারা উভয় ছুঁয়েছে বিআইএসএপি এর এই উদ্যোগ শক্তিশালী কারণ এটি চট্টগ্রামের ঝুঁকি এবং অভিক্ষিপ্তাবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছাতে পেরেছে।

যদিও এইচআইভি / এইডস-এর বোঝা সম্প্রতি বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর বিস্তারের ঝুঁকি উপাদান উপস্থিতি সত্ত্বেও রোগ এবং মৃত্যুহার ক্ষুদ্র রয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে, এই ধরনের সম্প্রদায় সংহতি উদ্যোগ রোগ সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। বিআইএসএপি এর এইচআইভি / এইডসে এখনো আক্রান্ত হই নি ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা উত্থাপনের এই তৃণমূল কৌশল বিশ্বের অন্যান্য উৎস-দরিদ্র শহরগুলোতেও কার্যকরী হতে পারে।

Photo credit: BISAP