The Asian University for Women Writing Team, Dhaka Community Managerদরিদ্র ঢাকা নগরবাসীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার অগ্রগতি

দ্বদিগ্যা শ্রেষ্ঠা ও জ্যোতি পখারেল

যদিও বাংলাদেশ গৃহস্থালি খাদ্য উৎপাদনে অসাধারণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করছে, দেশটি দরিদ্র ও দুর্বল জনগষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশে প্রতি চার গৃহের একটি খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছে, বিশেষ করে শহুরেবাসীদের মধ্যে বস্তিবাসীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশি ১৭০ মিলিয়ন জনগণের কমপক্ষে শতকরা ৫ ভাগ বস্তিবাসীরা এই খাদ্য অনিরাপত্তার স্বীকার। জাতীয় পর্যায়ে বর্ধিত গৃহস্থালি খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য আমদানিকরন, এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনার যথেষ্ট পর্যাপ্তটা রয়েছে। যাইহোক, শুধুমাত্র খাদ্যের পর্যাপ্তটা সর্বদা খাদ্যের অনিরাপত্তার সমস্যার সমাধান দিতে পারেনা। এক্ষেত্রে স্থানীয় লোকদের ক্রয়ক্ষমতা ও খাদ্যের মূল্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। খাদ্যের চড়ামূল্য ও নিম্ন ক্রয়ক্ষমতার কারণে প্রায়ই দরিদ্র লোকজন খাদ্যের অধিকার থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে। ঢাকার বস্তীবাসীদের উপর করা একটি পরিসংখানে বলা হয়েছে, যদিও বস্তীবাসীরা খাদ্য অভ্যাসে সচেতন, স্বাস্থ্যকর খাবার ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে তারা এসমস্ত খাবারগুলো ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মূল্য সাধারণত বাজার খাদ্য মূল্যের উপর নির্ভর করে; যাইহোক, দরিদ্র মানুষদের ক্রয় করার ক্ষমতা বিবেচনা না করেই বাজারে খাবারগুলোর মূল্য হ্রাসবৃদ্ধি হতে থাকে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশিও-একনোমিক অ্যাডভাঞ্চমেন্ট ইন বাংলাদেশ (ASEAB) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার ১৯৯৩ সাল থেকে সমাজের কোণঠাসা জনগণ বিশেষ করে বস্তিবাসীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামের মধ্যে “বস্তি ও নগরায়ন প্রকল্প” একটি। তাদের এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বস্তিবাসীদের জন্য পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা। ২০০১ সাল থেকে, ASEAB ঢাকার বস্তি এলাকার ১৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরণের সেবা সরবরাহ করে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৬০০ বস্তিবাসীকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে আয় উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেমন সেলাই, ব্লক-বাটিক, মোমবাতি, এবং ফাস্ট ফুড তৈরির কাজ শেখানো।

যদিও ASEAB ঢাকার দরিদ্র নগরবাসীদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অবদান রাখচ্ছে, এই প্রোগ্রাম একাকী সম্বলিত খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। সুতরাং, ঢাকার দরিদ্র নগরবাসীদের খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহদের (এনজিও) এগিয়ের আসা দরকার। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি, সরকারের উচিত নিয়মিতভাবে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। সরকার একটা উপায় বেছে নিতে পারেন সেটা হল বাজারের খাদ্যমূল্যের সীমাবদ্ধাতা খুঁজে বের করা এবং প্রতিটি পণ্যের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে দেওয়া, যাতে খাদ্য সরবরাহকারীরা সরকারের নির্ধারণ মূল্য তালিকা অনুসারে পণ্য বিক্রয় করতে পারে। পণ্যের উচ্চমূল্য প্রতিরোধের জন্য সরকার আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে, সেটা হলো বাজারের জন্য খাদ্য মজুত রাখা। যখন খাদ্য ঘাটতি ঘটবে, তখন যেন সরকার মজুত থেকে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারে। পণ্য কম সরবরাহ থাকার কারণে অনেক সময় বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, এই প্রক্রিয়া খাদ্যের মূল্য প্রতিরোধে সহায়তা করবে বাজারে চাহিদা অনুসারে পণ্য সরবরাহ করে।