The Asian University for Women Writing Team, Chittagong Community Manager

 
চট্রগ্রামের ফুটপাথ মার্কেটঃ আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়নের উপযুক্ত সময়

ললেখিকাঃ তৌসিফা তজল্লী, অনুবাদকঃ ফারজানা নওশিন

উন্নয়নশীল দেশগুলোতেএখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অনানুষ্ঠানিক অংশ ফুটপাথ-মার্কেট। এশিয়ান দেশগুলোর ১০-১৫% কর্মসংস্থান ফেরীওয়ালাদের মাধ্যমে পূর্ণ হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দর নগরী চট্রগ্রাম এর বাতিক্রম নয়। ফুটপাথে গজিয়ে ওঠা এসকল দোকানের কারণে যানজট, মানুষের ভীর এবং প্রচুর আবর্জনার সৃষ্টি হয় যা চট্রগ্রাম কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। তবে, ফুটপাথ মার্কেট যে শুধু গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র ফেরীওয়ালাদেরই উপকার করে তা নয়, এই মার্কেটগুলো নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের মানুষদের সাশ্রয়ী মূল্যে বাজার করার সুযোগ করে দেয়।

চট্রগ্রাম সম্মেলিত হকারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার মতে বন্দর নগরীতে এখন ১৬০০০ ফেরীওয়ালা আছে। এই সকল ফেরীওয়ালারা প্রধানত সুযোগের সন্ধানে গ্রাম থেকে এবং স্রম-বাজার ছেড়ে দিয়ে হকারস মার্কেটে কাজ করে। স্থানীয় পৌর-কর্তৃপক্ষ দ্বারা সবসময় উচ্ছেদের তাগিদা পেয়ে, ফেরীওয়ালারা মনে করেন যে শহুরে অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্ব এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ করার অধিকার সরকার দ্বারা স্বীকৃত নয়। নগর পরিকল্পনার নামে স্থানীয় পৌর-কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে ফেরীওয়ালাদের নিয়ন্ত্রন করার জন্য। যদিও ফুটপাথ-মার্কেট একটি বড় সংখ্যার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে থাকে, তারপরও দুর্ভাগ্যক্রমে চট্রগ্রাম কর্তৃপক্ষের ফুটপাথ-মার্কেট নিয়ে কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। সেজন্য তারা নিজেদের সাহায্য করার জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর করেছে। যে সকল ফেরীওয়ালাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল তারা উল্লেখ করেছে যে তাদের একটি “ত্রান সমিতি” আছে যেখানে তারা প্রত্যেকে ১০ টাকা জমা করেন এবং সপ্তাহ শেষে লটারির মাধ্যমে এই টাকা কোন একজন ফেরীওয়ালা পান। এতে করে প্রত্যেকে টাকা পাওয়ার একবার করে সুযোগ পান, যা তাদের ব্যবসায় উন্নতি করার সুযোগ এনে দেয়।

খাবার ফেরীওয়ালাদের জন্য প্রচলিত সমর্থন এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকায় নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের একটি গরিষ্ঠ সংখ্যার মানুষ সস্তায় দৈনন্দিন পুষ্টির জন্য রাস্তার খাবারের উপরে নির্ভর করে, কিন্তু খাবার-বিক্রেতারা বেশিরভাগ সময়ই অশিক্ষিত এবং নিরাপদ ভাবে খাবার প্রস্তুত করতে অজ্ঞ হয়ে থাকে। সেজন্য, রাস্তার খাবার গণস্বাস্থ্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ এবং শিগ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। জাতীয় খাদ্য নীতি শক্তিশালীকরন প্রকল্প (এন.এফ.পি.সি.এস.পি) এর একটি উদ্যোগ ছিল রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের খাবার প্রস্তুতির স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গঠনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর রাস্তার খাবারের ব্যবস্থা করা। এই প্রশিক্ষণ ঢাকার ধানমণ্ডি, লালবাগ এবং মতিঝিল এলাকার খাবার বিক্রেতাদের দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে খাবার তৈরির প্রশিক্ষণ পেয়েছে তিনশত ফেরীওয়ালা যারা খাবার বিক্রি করে। প্রয়োজনীয় বাসনসহ ১১ টি রাস্তায় খাবার বিক্রির গাড়ি প্রদান করা হয়েছে ফেরীওয়ালাদের প্রশিক্ষণের জন্য। উপরন্তু, একটি ইন্টারমিডিয়েট প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান একটি প্রকল্প শুরু করেছে “এনার্জি অ্যান্ড স্ট্রিট ফুড ভেণ্ডর” নামে যা ঢাকা এবং বগুড়া জেলায় কাজ করেছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল খাদ্য গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং উন্নত জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে ফেরীওয়ালাদের জীবিকার উন্নতি করা। এই প্রকল্পে তারা উন্নত জৈবজ্বালানি চালিত চুলা রাস্তার ফেরীওয়ালাদের কাছে পরীক্ষা করিয়েছে এবং তারা মনে করে যে রাস্তার খাবার বিক্রি বেড়ে যাবে যদি জৈবজ্বালানি চালিত চুলা ব্যবহার করা হয়। এই প্রকল্পের ফলাফল থেকে জানা যায় যে সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে রাস্তায় খাবার বিক্রি একটি লাভজনক এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবসা হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকায় রাস্তায় খাবার বিক্রেতাদের সাহায্য করার এই পদক্ষেপ গুলো প্রমাণ করে যে সঠিক নীতিমালা দ্বারা বাংলাদেশের ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের সাহায্য করা সম্ভব। একইরকম পদক্ষেপ এখন চট্রগ্রামে নেয়া উচিত যেন চট্রগ্রামের হাজার হাজার ফেরীওয়ালাদের জীবিকার উন্নতি হয়।

Photo credit: Sudipta Arka Das and John Pavelka