The Asian University for Women Writing Team, Dhaka Community Manager

 
শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার চক্রের মুখোমুখি

আনশু আধিকারি, অনুবাদকঃ ফারজানা নওশিন এবং নুসরাত ইয়াসমিন

 

শিশু অধিকার লঙ্ঘনের দুটি চরম প্রতিমূর্তি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ। উভয়ই বাংলাদেশে প্রায়শই দেখা যায় এবং দুটিই গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। “আস্ক ডকুমেন্টেশন ইউনিট” এর একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে ২০১৩ সালের জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ৫৪ টি শিশু, ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে ১০২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৮৬ জন কিশোরকিশোরী ধর্ষিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা থাকে না যে, এই পরিসংখ্যান যৌন নির্যাতনে শিকার হওয়া শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করে না।

যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের এই প্রচলন বন্ধ করার জন্য, বিশেষ করে তরুণীদের উপর যৌন নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সরকার পুরো বাংলাদেশে ২০০১ সালে "ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ও,এস,সি,সি)" প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সংস্থাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন এনজিও যেগুলো মহিলাদের দ্বারা প্রচালিত হচ্ছে এবং রয়েল ডেনিশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধায়নে প্রচালিত হচ্ছে। চট্রগ্রামে ও,এস,সি,সি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে; উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য সেবা, বাসস্থান পরিসেবা, সামাজিক সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, আইন এবং পুলিশ সহায়তা এবং ডি,এন,এ পরীক্ষা করার সেবা দিয়ে থাকে। শিশুরা তাদের সেবার বৃহত্তম গ্রাহক।

ও,এস,সি,সি বিশেষ করে চট্রগ্রাম জেলায় শিশু অধিকার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে কারণ চট্রগ্রামে প্রচুর গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে এবং এটি পাহাড় বেষ্টিত এলাকা যা কোন কোন ক্ষেত্রে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে। গ্রাম এবং শহরের বস্তি থেকে অনেক শিশু গার্মেন্টসে কাজ করতে আসে যেখানে তারা প্রায়ই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। একই ভাবে পাহাড় অঞ্চলে জমি এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বাংলাদেশী অধিবাসী এবং পাহাড়ের আদি জনগোষ্ঠীর সহিংসতায় নিরুপায় শিকার হয় শিশুরা। চট্রগ্রাম রক্ষণশীল সমাজ হওয়ায় ধর্ষণের শিকার এসব শিশুরা সাধারণত লজ্জায় নিজেকেই নির্যাতনের জন্য দায়ী করে এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করে।

চট্টগ্রামের ও.এস.সি.সি. অত্যাবশ্যকীয় সেবা ও আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার শিশুদের একটি দলের জন্য বিশেষভাবে কাজ করে যারা অসুরক্ষিত এবং যাদের অধিকার বা উপলব্ধ সেবা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। ও.এস.সি.সি. চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গুলোতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যে কোনো প্রকার আবশ্যক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। ও.এস.সি.সি. চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদেরকে ডাক্তারি এবং ফরেনসিক পরীক্ষা যাচাই করে দেখার জন্যও অনুরোধ করে। এছাড়াও, প্রত্যেক ও.এস.সি.সি. কেন্দ্রের আইনজীবী ও পুলিশ ব্যবস্থাপনার সমর্থন আছে যাতে কেন্দ্র নিজেই যে কোন সময় ধর্ষণ মামলা দায়ের করতে পারেন।

সংক্ষেপে, যৌন বা ঘরোয়া নির্যাতনের শিকার শিশু (ও বয়স্কদের) এক জায়গায় বিনামূল্যে সকল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও সামাজিক সেবা প্রদান করাই হচ্ছে ও.এস.সি.সি.র উদ্দেশ্য। এভাবে, ধর্ষণের শিকার শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, বৈধ সহযোগিতা, এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া হয় যেন তারা শিশু এবং নারী হিসাবে তাদের অহং জোরদার করতে, ধর্ষণের মানসিক ও শারিরীক আঘাত কাটিয়ে উঠতে, এবং জীবন পুনর্নির্মাণ করতে পারে। এইভাবে, ও.এস.সি.সি. নগরের দরিদ্র পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার চাইতে সাহায্য করে যাদের শিশু যৌন সহিংসতার শিকার। ও.এস.সি.সি. মামলা অনুসরণের পাশাপাশি বৃহত্তর দর্শকের কাছে আদালতের রায় প্রচার করার মাধ্যমে, সমাজে ধর্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে শারীরিক ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ২০০৯ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ও.এস.সি.সি ৮৬৫৩ বাংলাদেশী নারী ও শিশুকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

যখন বাংলাদেশে শিশু যৌন সহিংসতার ইস্যু মীমাংসিত থেকে অনেক দূরে, তখন ও.এস.সি.সি. সাহায্য করে যে কিভাবে শিশুর অধিকার সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত প্রোগ্রামের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। চট্টগ্রামের ও.এস.সি.সি. ক্ষক্তিগ্রস্থ শিশুদের ব্যপক মানসিক, আইনগত, এবং স্বাস্থ্যের যত্ন প্রদানের কাজ করে, কিন্তু শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধের উপর আরও জোর স্থাপন করতে হবে।

 

Photo credit: BISAP